May 1, 2026
আমির : বাঙালীর জন্য ইলিশ শুধু মাছ নয়,সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও বটে। পহেলা বৈশাখে ইলিশ দিয়ে পান্তাভাত চাই চাই। কিন্তু বাঙালীরা রক্ষা করতে পারছেন না তাদের এই ঐতিহ্য ইলিশকে।
গবেষকরা এই ইলিশ কমার পিছনে কারণ হিসেবে দেখছেন নদী দূষণ, নাব্যতা হ্রাস , খাদ্য সংকট এবং নোনা জলের অনুপ্রবেশকে। ইলিশ মূলতঃ নোনা পানির মাছ। বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, কর্ণফুলি, গোমতি, রুপসা, শিবসা, করতোয়া ইত্যাদি নদীসমূহ ইলিশের প্রধান উৎস। বছরে দু’বার এরা ডিম দেয়। প্রজনন কালে বর্ষায় পদ্মা, মেঘনা, যমুনার স্রোত ধারায় ইলিশ ঝাঁকে-ঝাঁকে বঙ্গোপসাগর থেকে এসে ভিড় জমায়। সেখানে মা ইলিশ সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটায়। ফেব্রুয়ারি-মার্চে অপেক্ষাকৃত কম সংখ্যক ইলিশ ডিম দিয়ে থাকে। একটি মা ইলিশ প্রতি মৌসুমে সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ ডিম ছেড়ে থাকে ,যা বর্তমানে হ্রাস পায়ে নেমে এসেছে ৮ থেকে ১২ লাখে। গত কয়েক বছর ধরে, এই জাতীয় মাছের প্রধান প্রজনন স্থলগুলো দূষিত হচ্ছে , যার কারণে কমছে এই ইলিশের প্রজনন।
১৯৮০ সালে, ইলিশ দেশের প্রায় ৫০টি বড় নদীতে পাওয়া যেত, যা এখন কমে নেমে এসেছে মাত্র ১০টি নদীতে- বলেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষকদের মতে, ইলিশের চলার পথ অন্তত চল্লিশ ফুট গভীর হতে হবে। পলি জমে ভরাট হয়ে এসব নদীর পানি প্রবাহ আর আগের মতো নেই। ফলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ। তাই বংশ বিস্তারের জন্য ইলিশ আর উজানে উঠছে না। নদী মোহনাতেই ডিম ছাড়ছে, যা প্রজননের স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থী। এসব কারণেই ইলিশের উৎপাদন দ্রুত কমে যাচ্ছে। যে পদ্মা নদী ইলিশের প্রধান বিচরণক্ষেত্র সেই পদ্মাই আজ প্রায় মৃত। শুধু বর্ষার চার মাস ছাড়া এ নদীতে সারা বছর পানি থাকে না বললেই চলে।
মূলত ভারতের ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মাসহ কয়েকটি নদীর আজ শীর্ণদশা। অথচ ইলিশের মতো এই প্রিয় মাছটির চাহিদা শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতেও এর চাহিদা কম নয়। কাজেই ইলিশের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। কেননা বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা এমনই যে, ভারতের সাথে কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া ইলিশের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ সম্ভব নয়। পদ্মাসহ ভারত ও বাংলাদেশের কিছু অভিন্ন নদী রয়েছে যা ভারতের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে।
প্রথমেই এসব নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বছরের বিশেষ সময়ে জাটকাসহ সব ধরনের ইলিশ শিকার বন্ধ করতে হবে। আর এসব বাস্তায়ন করতে পারলেই আমাদের সবার প্রিয় মাছ ইলিশের সুদিন আবার ফিরে আসবে।
ডেইলি স্টার থেকে অনুবাদ করেছেন আমির পারভেজ