April 19, 2026
স্টাফ রিপোর্টার : অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে কোটি টাকা ঋণ দেয়ায় ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের সাত কর্মকর্তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও সম্মিলিতভাবে এক কোটি ৯০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ডের টাকা প্রত্যেকের কাছ থেকে সমানুপাতে আদায় করা হবে।
সোমবার ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক হোসনে আরা বেগম এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ মো. হারুন, সাবেক সিনিয়র অ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম মাহমুদ উল্লাহ, সাবেক অ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ফজলুর রহমান, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. তারিকুল আলম, সাবেক সিনিয়র এক্সিকউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হোসেন, সাবেক এক্সিকউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট কামরুল ইসলাম ও সাবেক ডিজিএম ইমামুল হক। আসামিদের সবাই পলাতক রয়েছেন।
রায়ে বিচারক আসামিদেরকে আগামি ৬০ দিনের মধ্যে আরোপিত অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬এর ১ (বি) ধারার বিধান মোতাবেক আসামিদের সম্পত্তি থেকে আদায় করা হবে।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের বাবুবাজার শাখা থেকে দণ্ডিত কর্মকর্তারা মেসার্স তানভীর এজেন্সি নামের একটি অস্তিত্বহীন ভূয়া প্রতিষ্ঠানকে অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে এক কোটি টাকা ঋণের প্রস্তাব প্রেরণ, অনুমোদন ও প্রদান করেন। ঋণ গ্রহণকারী ভূয়া প্রতিষ্ঠান মেসার্স তানভীর এজেন্সির মালিক হচ্ছেন জনৈক মো. কামরুল আহসান। ওই এক কোটি টাকার ঋণ মামলা করার সময়ে এক কোটি ৬২ লাখ ২৫ হাজার ৪৯০ টাকায় দাঁড়ায়।
এই ঘটনায় দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর মতিঝিল থানায় একটি মামলা করেন। ২০১৩ সালে তদন্ত কর্মকর্তা শেখ ফাইয়ারজ আলম মামলাটিতে চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটে মোট চার জনকে সাক্ষি করা হয়। চারজন সাক্ষিই আদালতে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. কবির হোসাইন।