April 21, 2026
কলকাতা: নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি নূর হোসেনের গ্রেফতারের খবরটি ভারত সরকার নোট ভার্বাল আকারে (অ-আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে) বাংলাদেশকে জানিয়েছে। এছাড়া তার ব্যাপারে ভারত সরকার তথ্য চেয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এসব কথা বলেন। এর আগে গত ১৬ জুন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ তার সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ভারত সরকার অ-আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে নূর হোসেনের গ্রেফতারের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারে নিশ্চিত করল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভারত থেকে নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কাজ চলছে।
২০১৩ সালে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বহির্সমর্পণ চুক্তির মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াধীন আছে। ইতোমধ্যে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো চিঠির জবাব পাওয়া গেছে। এখন ভারত সরকার যেসব তথ্য চেয়েছে সেগুলো সংগ্রহের কাজ চলছে। তবে কতদিনের মধ্যে নূর হোসেনকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ এ বিষয়ে ভারতের পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সার্বিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া কলকাতার পুলিশ নূর হোসেনকে যে অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে সে বিষয়েও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার কাছে কোন পাসপোর্ট ছিল না এবং তার কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আট দিনের রিমান্ড দিয়েছেন ভারতের আদালত। এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে কলকাতায় গ্রেফতার নূর এবং তার দুই সহযোগীকে। জানার চেষ্টা হচ্ছে হুন্ডিতে নিয়ে আসা দুই কোটি টাকা কোথায় রাখা আছে। কার আশ্রয়ে সে কলকাতায় ছিল। কলকাতাসহ আশ-পাশের এলাকায় নূরকে নিয়ে তল্লাশি চলে।
তখনি নিজে অযাচিতভাবে নূর হোসেন জানায়, বাংলাদেশে ফেরানো হলে তাকে মেরে ফেলা হবে। তাই তাকে কলকাতায় শাস্তি দেয়া হোক। প্রয়োজনে শাস্তি দিয়ে ভারতের জেলে রাখা হোক। এখানকার জেলেই আমি নিরাপদ থাকব। এদিন জেরায় নূর বারে বারে বলেছে, সেভেন মার্ডারে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মেয়র প্যানেলের সদস্য নজরুল ইসলামের স্ত্রীকে প্রভাবিত করে তার বিরুদ্ধে মামলা করানো হয়েছে। এছাড়া সেভেন মার্ডার বিধাননগর কমিশনারেটের তদন্তের বিষয় নয়, নূরকে একথা একাধিকবার বলা হয়েছে। তবু কেন বার বার নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারের বিষয়টি উত্থাপন করছে নূর? ওরা কারা? এর জবাবে বিধাননগর কমিশনারেটের অ্যান্টি টেররিস্ট সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার অনিশ সরকার জানিয়েছেন, বিষয়টি নূর বার বার তুলছে। এর কারণ হতে পারে সে হয়তো প্রাণনাশের আশংকা করছে। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, ‘ওরা কারা’? জিজ্ঞেস করলেই থমকে যাচ্ছে নূর। আর কিছুই বলছে না। শুধু বলছে, ওরা ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর প্রভাবশালী। ওদের হাতে অনেক ক্ষমতা। ওরাই আমাকে ফাঁসিয়েছে। আমার কোনো দোষ নেই।