পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

এ মাসেই বসবে স্প্যান

Posted on June 11, 2017 | in ব্যবসা-অর্থনীতি, সারা দেশ | by

লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ছয় শতাংশ কাজ পিছিয়ে থাকার কারণে পদ্মা সেতুর কাজের গতি বাড়াতে আরও একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হ্যামার আনা হয়েছে। বর্তমানে যে দু’টি হ্যামার দিয়ে পাইলিংয়ের কাজ চলছে, এ দুটোর ক্ষমতা যথাক্রমে ২ হাজার ৪০০ ও ২ হাজার কিলোজুল। আর নতুন যে বিশাল হ্যামারটি দুই একদিনের মধ্যে পাইলিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে, সেটির ক্ষমতা ৩ হাজার কিলোজুল। এতে দ্রুত গতিতে পদ্মা সেতুতে পাইলিংয়ের কাজ করা যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের।
জার্মানির মিউনিখে তৈরি এ হ্যামারটি গত ২৭ এপ্রিল নেদারল্যান্ডসে পোর্ট অব রটারড্যাম থেকে রওনা দেয়। গত ৫ জুন সোমবার সকালে পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছে হ্যামারটি।
বাংলা ট্রিবিউনকে এই নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত পদ্মা সেতুর কাজের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ শতাংশ, কিন্তু কাজ হয়েছে ৪২.৫০ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকার কারণে আমাদের কাজের গতি বাড়াতে হবে। সেজন্য একটি নতুন হ্যামার আনা হয়েছে । আর এখন যেখানে ছয়টি কপার ড্রামে কাজ চলছে, তার পরিবর্তে ১৩টি প্ল্যাটফর্মে কাজ করা হবে।’

যদিও ৪২.৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু সাধারণ চোখে তা বোঝা যায় না উল্লেখ করে দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, বেশিরভাগ কাজই পাইলিংয়ের, যা মাটির নিচে হয়েছে। ৪০টি স্প্যানের মধ্যে ২০টি স্প্যান রেডি, কিন্তু বসানো হয়নি একটিও। যে সুপার স্ট্র্যাকচারগুলো তৈরি হয়েছে, তা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে প্যানেল করে রাখা আছে। ২০টির মধ্যে মাওয়ায় আছে সাতটি, আর বাকি ১৩টি রয়েছে চীনে। স্প্যানগুলো চীনের ডক ইয়ার্ড থেকে সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ান হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে জাহাজে করে। চীন থেকে মাওয়ায় এসে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৮ দিনের মতো। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে স্থান সংকুলানের কথাও আমাদের চিন্তা করতে হয়। তাই তৈরি স্প্যানগুলো এখনও চীনে আছে, পর্যায়ক্রমে আনা হবে।

এদিকে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ প্রায় শেষের দিকে। মাওয়া প্রান্তে ১.৬৭ কিলোমিটার মেইন রোড ও দুই কিলোমিটার লিংক রোডের কাজ গত জুলাইতে শেষ হয়েছে। জাজিরা প্রান্তে ১০.৫৭ কিলোমিটার (প্রায়) মেইন রোড, তিন কিলোমিটার লিংক রোড, ১২ কিলোমিটার সার্ভিস রোড ও ছয় কিলোমিটার ফেরি শিফটিং রোডের কাজের মধ্যে শেষ হয়েছে প্রায় ৯৮ শতাংশ।

নির্বাহী প্রকৌশলী (এপ্রোচ রোড) সৈয়দ রজব আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ডিসেম্বর মাসেই অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ ৮৫ শতাংশ শেষ হলেও গত পাঁচ মাসে ধীর গতিতে বাকি ১৩ শতাংশ কাজ করতে হয়েছে। কারণ মাটি সেটেলমেন্ট ও সেতুর দুই প্রান্তে থানা নির্মাণের কাজও নতুন করে আমাদের দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এএমএল-এইচসিএম জেবি’কে (আব্দুল মোনেম গ্রুপ) অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজটি দেওয়া হয়। ২০১১ সালে মাওয়া প্রান্তে অ্যাপ্রোচ রোডের এ কাজের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৯৩ কোটি টাকা (প্রায়) ও জাজিরা প্রান্তের জন্য ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা (প্রায়)। তবে এখন থানা নির্মাণ, ফেরি ঘাট শিফটিংয়ের কিছু কাজ নতুন করে দেওয়ার ফলে মূল্য কিছুটা বাড়বে।

এদিকে, দ্রুত গতিতে পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন করতে প্রচণ্ড রোদ ও গরমের মধ্যেও শ্রমিকরা কাজ করছেন। পাইলিংয়ের কাজ নদীর মধ্যে বসানো কপার ড্রামের মধ্যে করতে হয়। সেখানে বাতাস না ঢোকায় সাধারণ শ্রমিকদের কষ্ট কমাতে এয়ার কুলার বা চিলারের মাধ্যমে ‘কুলিং বাতাস’ ঢুকিয়ে পরিবেশ কিছুটা অনুকূল করার চেষ্টা হচ্ছে। নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সেফটি ইঞ্জিনিয়ার যারা আছেন, তারা শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখেন। কপার ড্রামে কুলিং বাতাস দেওয়ার ব্যবস্থা করা আছে। এছাড়া শ্রমিকদের স্যালাইনও সরবরাহ করা হচ্ছে। ’

এই সেতু প্রকল্পে দেশি-বিদেশি মিলে প্রায় চার হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, প্রায় ৮০০ বিদেশি শ্রমিকের মধ্যে চীনাদের সংখ্যাই বেশি। এদের মধ্যে প্রায় ৫০০ শ্রমিকসহ প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ম্যানেজমেন্ট লেভেলের কর্মকর্তা রয়েছেন।

এদিকে, দ্বি-স্তর বিশিষ্ট পদ্মা সেতুর স্প্যানের ওপর বসানোর জন্য স্ল্যাব নির্মাণের কাজ গত দুই সপ্তাহ আগে শুরু হয়েছে। স্ল্যাব বসানো হবে মোট তিন হাজার । এর ওপর বিটুমিন দেওয়া হবে। মূলত এই স্ল্যাবের ওপর দিয়েই যানবাহন চলবে।

পদ্মা নদীতে এখন অপেক্ষা করছে চার হাজার টন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ক্রেন, যার কাজ হবে স্প্যানগুলোকে দুই পিলারের ওপর সঠিকভাবে বসিয়ে দেওয়া। চলতি মাসেই স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হলে পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি সবার কাছে দৃশ্যমান হবে, বলে আশা প্রকাশ করেন নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud