March 15, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের বিত্তশালীরা অর্থ জমা রাখার জন্য সুইস ব্যাংককে বেছে নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটিতে বাংলাদেশিদের জমা রাখার অর্থের পরিমাণ ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা বাংলাদেশে নিরাপত্তার অভাব ও প্রতিকুল বিনিয়োগ পরিবেশকে দায়ী করেছেন।
সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক এসএনবি’র প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে শুক্রবার বিবিসি বাংলা জানায়, ২০১৪ সালে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ ৫০৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, টাকার অঙ্কে প্রায় চার হাজার তিনশত কোটি টাকা। আগের বছর এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৩৭২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় তিন হাজার একশত পঞ্চাশ কোটি টাকা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেই অর্থ, মূল্যবান শিল্পকর্ম, স্বর্ণ বা দুর্লভ সামগ্রী গচ্ছিত রাখার ক্ষেত্রে সুইস ব্যাংকগুলো জনপ্রিয়। কেবল বাংলাদেশিদের রাখা অর্থের পরিমাণই নয়, সুইটজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোয় সারাবিশ্ব থেকে অর্থ জমা রাখার পরিমাণ বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় ২০১৪ সালে সুইস ব্যাংকগুলোয় বিদেশি গ্রাহকের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি সু্ইস ফ্রাঁ। আর এই হিসাবে বাদ পড়েছে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতব বস্তু।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা এবং বিনিয়োগের যথাযথ পরিবেশ না থাকায় দেশের বাইরে, বিশেষ করে সুইস ব্যাংকগুলোয় গত এক বছরে বাংলাদেশ থেকে রাখা অর্থের পরিমাণ বেড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিনিয়োগের পরিবেশ, নিরাপত্তাহীনতা আর টাকাটা কোন পথে আয় করা হলো, তার ওপর নির্ভর করে কেন বাংলাদেশিদের জামানত সুইস ব্যাংকগুলোয় বাড়ছে। যেভাবেই টাকা আয় করা হোক, অনেক সময় বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও হয়ত এখানকার ব্যাংকে অর্থ রাখতে একজন নিরাপদ বোধ করছে না, সেক্ষেত্রে অর্থ দেশেরে বাইরে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।’ তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেও সুইস ব্যাংকগুলোয় যাওয়া অর্থের পরিমাণ বেড়েছে।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এমকে মুজেরী বলেন, সুইজারল্যান্ডের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, স্থিতিশীলতা এবং গ্রাহকের গোপনীয়তা বজায় রাখার সুনামের কারণেই এমনটি হয়ে থাকে।
এর আগে সুইস ব্যাংকগুলোয় বাংলাদেশিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত বিবরণ জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেখান থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।