পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

ঈদের আগে পুলিশী তৎপরতা এবং অসহায় নগরবাসী

Posted on July 16, 2014 | in ইসলাম | by

checkpostমাহমুদ সাদিক : ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে নিরাপত্তার নামে পুলিশের তৎপরতা বেড়ে গেছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তলøাশী চালাচ্ছে পুলিশ। শুধু নিরাপত্তা নয়, যানজট নিরসনের জন্যও পুলিশ এখন তৎপর। পুলিশের এই তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মনে স্ব¯িÍ আসার কথা। কিন্তু মানুষ স্ব¯িÍর চেয়ে যেন আতঙ্কেই ভুগছেন বেশি। সংবাদ মাধ্যমের খবরে প্রকাশ, গভীর রাতে ঈদের কেনাকাটা করে ঘরে ফেরার পথে মানুষ এক ধরণের পুলিশী চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। চেকপোস্টের পুলিশ সদস্যরা দেহ তলøাশীর নামে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আবার মামলার ভয় দেখিয়ে নানাভাবে হয়রানিও করছেন। অভিযোগ রয়েছে, বেশ কিছু চেকপোস্টে পুলিশ তাদের নেমব্যাজ ব্যবহার করছেন না। ফলে হয়রানির শিকার মানুষ কোন অভিযোগও করতে পারছেন না। নগরবাসি আতঙ্কে থাকেন চেকপোস্টে কখন নাজেহাল হতে হয়।
কর্তৃপÿ অবশ্য বলছে, কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু নেমব্যাজবিহীন পুলিশের বিরুদ্ধে কিভাবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা যায় তাও এখন নগরবাসীর ভাবনার বিষয়।
একথা সত্যি যে, ঈদুল ফিৎর, ঈদুল আজহা, পুজা, বড়দিন কিংবা বৌদ্ধ পুর্ণিমার মত বড় কোন উৎসব এলেই মানুষের মধ্যে কেনা কাটার ধুম পড়ে যায়। আর এই সময়েই ছিনতাই, পকেটমার ও অজ্ঞান পার্টিসহ অপরাধীদের তৎপরতাও বেড়ে যায়। এই অপরাধ ঠেকাতেই প্রতি বছর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় নগরীতে। পোষাকী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকধারীরাও নজরদারী করেন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট বিশেষ করে শপিং মলগুলোর আশপাশে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্ব¯িÍও আসে। কিন্তু এক শ্রেণীর পুলিশ সদস্য তলøাশীর নামে শুরু করে দেন বাণিজ্য। ঈদের আগে বাড়তি আয়ের জন্যই এই বাণিজ্য। চেকপোস্টে তলøাশীতে যেসব নির্দেশনা রয়েছে তাও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
রসধমবং (৪৫)শুধু কি চেকপোস্টে তলøাশীর নামেই বাণিজ্য, রাজধানীতে অবৈধ যানবাহনের চলাচল বন্ধে গাড়ির কাগজপত্র পরীÿার নামেও চলে এক ধরণের চাঁদাবাজি বা বাণিজ্য। বছরের অন্যান্য সময়ও কাগজপত্র পরীÿা করে থাকে ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু রোজার মাসে তা বেড়ে যায়। কাগজপত্র পরীÿা ছাড়াও গাড়িতে তলøাশী চালিয়ে চালক ও যাত্রীদের হয়রানী করা হয়, টাকা পয়সাও হাতিয়ে নেয়া হয়।
নগরীতে মূলত: যানজট নিরসনেই অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে কাগজ পত্র পরীÿা করা হয়ে থাকে। কিন্তু পুলিশ যেভাবে কাগজপত্র পরীÿার নামে রা¯Íার মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে তলøাশী চালায় তাতে যানজট কমে না বরং বাড়ে। এমনিতেই ঈদের আগে রাজধানীতে মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় যানবাহনের সংখ্যা যেমন বাড়ে তেমনই বাড়ে যানজট। এ অবস্থায় ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা যানজটকে আরও বাড়িয়ে দেয়। আর ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
ঈদের আগে মানুষকে এমনিতেই নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি অফিসই নির্দিষ্ট একটি সময়ে ছুটি হওয়ায় মানুষ ইফতার করার জন্য ঘরের দিকে ছুটতে থাকেন। এতে রা¯Íায় চাপ বেড়ে যায় এবং ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়। সবারই থাকে ঈদের কেনাকাটার জন্য বাড়তি চাপ। আপনজনদের নিয়ে ঈদ করার জন্য বাস, ট্রেন বা লঞ্চের টিকিট কাটার চাপ, আর টিকিট পেতে যে ঝক্কি তাও সবার জানা। আবার টিকিট পেলেও বাড়ি যেতে দীর্ঘ যাত্রায় যানজটসহ নানা ভোগান্তি।
এতসব ভোগান্তির মধ্যে পুলিশের ভূমিকা হবে সহায়ক এটাই সবার প্রত্যাশা। কর্তৃপÿও সাধারণ মানুষকে সহায়তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে মানুষকে স্ব¯িÍও দিচ্ছেন। কিন্তু কতিপয় পুলিশ সদস্য এই সুযোগে চাঁদাবাজি এবং মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। এই হয়রানি একদিকে যেমন পুলিশের ভাবমূর্তিকে ÿুন্ন করছে তেমনই এদের কাছে অসহায় হয়ে পড়ছেন নগরবাসি। কিন্তু এ থেকে পরিত্রাণের পথ কী?
কর্তৃপÿ অবশ্য বলছে, এ ধরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গিয়ে নতুন করে হয়রানির আশঙ্কা অনেকেরই। তাই অনেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগও করতে চান না। তাছাড়া অনেক পুলিশ সদস্যই এ ধরণের চাঁদাবাজি করার সময় নিজের নেমব্যাজও খুলে রাখেন। তাই ওই পুলিশের নামও নির্দিষ্ট করে উলেøখ করা সম্ভব হয় না অভিযোগে। এতে অভিযুক্ত পুলিশ পাড় পেয়ে যান এবং বেপরোয়া হয়ে আবারও এ ধরণের অপরাধ করতে থাকেন। এ অবস্থায় নগরীর সাধারণ মানুষ অসহায়ের মতই শুধু ভোগান্তির শিকার হন।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud