পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

ঈদযাত্রায় যোগ হচ্ছে ৮৩ পুরোনো বগি

Posted on July 15, 2014 | in জাতীয় | by

_44560761_painting_bbc.466সৈয়দপুর: প্রতিবারের মতো এবারও ঈদে ঘরমুখী মানুষকে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করতে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ট্রেনের পুরোনো বগি মেরামতের কাজ চলছে। এবার ৮৩টি বগি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৬১টি ব্রডগেজ ও ২২টি মিটারগেজ লাইনের বগি রয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫৬টি বগি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। সেগুলো পাকশী ও লালমনিরহাট রেলপথ বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৭টি বগি ২০ জুলাইয়ের মধ্যে মেরামত শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মেরামত শেষে সেগুলো রেলপথ বিভাগে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদে বেশিসংখ্যক যাত্রী পরিবহন ও অধিকতর যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে। এ ছাড়া, নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো অতিরিক্ত বগি সংযোজন করে। এবার ঈদেও তার ব্যতিক্রম হবে না। তাই দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় এবার অতিরিক্ত ৮০টি বগি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে শ্রমিকদের অতি উৎসাহে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো তিনটি বগি মেরামত করা হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে বগিগুলো মেরামতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের। তবে সময়মতো বগিগুলো হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সৈয়দপুর কারখানার ওয়ার্ক ম্যানেজার মো. কুদরত-ই-খোদা জানান, ঈদে ঘরমুখী মানুষ কর্মস্থল থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে রেলভ্রমণেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রতিবছর ঈদে রেলওয়ের ওপর চাপ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। আর তাই ঈদে যাত্রীসেবার জন্য অতিরিক্ত বগি মেরামত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এ সময় যেসব বগি মেরামতের কাজ চলছে তাতে সীমিত আকারে ওভারটাইমের ব্যবস্থা করা হয়। ওই খাতে সরকারের অতিরিক্ত ১ কোটি ১২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবার রেকর্ডসংখ্যক বগি মেরামত হয়েছে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায়। ২০১১ সালে ঈদুল ফিতরে সর্বোচ্চ ৫২টি বগি মেরামত করা হয়েছিল। ওই বছর ঈদুল আজহায় তা ৬৬টিতে উন্নীত করা হয়। ২০১২ সালে ঈদুল ফিতরে ৭০টি ও ঈদুল আজহায় ৫৬টি বগি মেরামত করা হয়। ২০১৩ সালে ঈদুল ফিতরে মেরামত হয়েছে ৬২টি ও ঈদুল আজহায় ৫৯টি। এবার সর্বনিম্ন জনবল সত্ত্বেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।’ তবে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) নুর আহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই শ্রমের বিনিময়ে অনেক মানুষ তাদের স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতে পারবে। কাজেই একটু অতিরিক্ত পরিশ্রম আমরা করতেই পারি বলে শ্রমিকদের উৎসাহ দেওয়া হয়।’ তিনি জানান, ঈদে ঘরমুখী মানুষের সেবার কথা মাথায় রেখে শ্রমিকদের ছুটি বাতিল করা হয়। তাদের নিয়মিত কাজের অতিরিক্ত শ্রমঘণ্টা ব্যয়ে এবার ৮৩টি কোচ মেরামত করা হবে। এটাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখতে হবে। এ জন্য তিনি প্রকৌশলী ও শ্রমিক কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। সোমবার সরেজমিনে কারখানার বিভিন্ন ওয়ার্কশপে ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিকরাও প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্রও বিরক্তির মনোভাব লক্ষ করা যায়নি। বরং পরিশ্রান্ত দেহেও হাসিমুখে কথা বলছেন শ্রমিকরা। বিকট শব্দে বিরতিহীন চলছে কারখানার মেশিনগুলো। আসন্ন ঈদে ঘরমুখী মানুষকে স্বচ্ছন্দে পরিবহনের নিশ্চয়তা দিতে চলছে এই মহাকর্মযজ্ঞ।

কারখানার ক্যারেজ শপের ওয়েল্ডার আবদুর রহমান (৫৯) । এ বছরেই তিনি অবসরে যাবেন। এই বয়সে ভারী কাজ করা খুব কঠিন। তবে তাকে মোটেও বিরক্ত মনে হলো না। বরং সোৎসাহে কাজ করে চলেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকগুলো পরিত্যক্ত কোচকে নতুন আঙ্গিকে তৈরির কাজে হাত দিয়েছি। এবার ঈদে এসব কোচে যাত্রীরা গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ জন্য ভালো লাগছে। যদিও আমরা অতিরিক্ত শ্রম দিচ্ছি, তবু এ কাজকে কষ্ট মনে হচ্ছে না। কেননা আমাদের শ্রম-ঘামে তৈরি কোচে কর্মস্থল থেকে হাজারো মানুষ ঈদে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন। পরিবার-পরিজনকে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবেন। এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়। এর চেয়ে আমাদের আর বড় কী পাওয়ার আছে?’

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud