April 5, 2026
মেহেদী হাসান বাবু: ‘কিং খান’ শাকিবের সঙ্গে ‘বদলে যাওয়া’ অপু আর পশ্চিমবঙ্গের ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তের মারদাঙ্গা অ্যাকশন – ‘সম্রাট’ সিনেমাটির টিজারে দেখা মিললো এসবের। মুক্তি পেয়েই অনলাইনে ঝড় তুলেছে টিজারটি। দেড় মিনিটের টিজারে চোখে পড়লো লন্ডন, মালয়েশিয়া আর বাংলাদেশের নানা লোকেশন। খলচরিত্র মিশা সওদাগরকে নানা কুকর্মের ছক কষতে দেখা গেল। ইন্দ্রনীল আবির্ভূত হলেন মারমুখী ভূমিকায়, যেন কিসের অভিযানে নেমেছেন তিনি। এরপরই এলেন অপু। মোহনীয়া অপুকে বলিউডের কোনো নায়িকার তুলনায় কম গ্ল্যামারাস মনে হয়নি। সবশেষে অন্য রকম এক অবতারেই দেখা গেল শাকিব খানকে। ক্ষ্যাপাটে এই গ্যাংস্টারের ইচ্ছেতেই যেন হতে হবে সবকিছু।

ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ লিখেছেন, “দিন যাচ্ছে, ‘সম্রাট’-এর টিজার নিয়ে সাড়া যেন তত বাড়ছে।এই সাড়া- প্রতিক্রিয়ার কোনো সংজ্ঞা হয় না। ঋণী হয়ে গেলাম। এই প্রশংসার পথটা তৈরি করে দিতে অকৃপণ পরিশ্রম করেছেন শাকিব খান, তিনি কেন দেশের এক নম্বর সুপারস্টার আর ভালো অভিনেতা, এই টিজার ছাড়ার পর শিরায় শিরায় বুঝে ফেলেছি। সম্রাট চরিত্রে তাকে ছাড়া অন্য কারও কথাই ভাবিনি। ভুল যে করিনি, সবার প্রশংসাতেই বোঝা যাচ্ছে। আমার ওপর আস্থা রেখে এক্সপ্রেশন, অভিনয়ের ঢঙ, সাজগোজ সবকিছুতে পরিবর্তন এনেছেন শাকিব খান। এজন্য তার প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ।” রাজ ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি সিনেমার প্রধান অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তকে।
“অপু বিশ্বাসকেও ধন্যবাদ। তাকেও নতুন অবয়বে উপস্থাপন করতে চেয়েছি, তিনি সহযোগিতা করেছেন মনোযোগী ছাত্রীর মতো। মিশা সওদাগরের তো তুলনা হয় না ! তাকেও ধন্যবাদ। বিশেষ ধন্যবাদ ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তকে। বলিউড আর কলকাতার বাংলা ছবিতে কাজের ব্যস্ততার মাঝেও ‘সম্রাট’-এর জন্য সময় বের করেছেন তিনি। বন্ধুর মতো মিশেছেন আমার সাথে।” ‘সম্রাট’ সিনেমার টিজার নিয়ে অনলাইনে আলোচনার ঝড় বইছে। পর্তুগাল প্রবাসী রাজু কর্মকার লিখেছেন, “অবশেষে বাংলা সিনেমাতে একটা বড় পরিবর্তন আসছে। আমার মনে হচ্ছে, এবার সত্যিই পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে যাওয়া যায়। টিজারটি দেখার পরে মনে হল এ সিনেমাটি আমাদের সবার হলে গিয়ে দেখা উচিত। সিনেমাটি বিনোদনমূলক হবে বলেই আশা করছি।”
সিনেমাভক্তদের ফেইসবুক গ্রুপ বাংলা চলচ্চিত্রের সদস্য মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন লিখেছেন, “আমাকে কখনও শাকিব খানের সিনেমাগুলো হলে টানেনি। তবে এখন শাকিব খানের একটি মুভি দেখার জন্য আমি অপেক্ষায় আছি। ‘সম্রাট’ সিনেমার টিজার দেখলাম। আমি শাকিব খানের ভক্ত না। কিন্তু শাকিব খান যদি এরকম সিনেমা করে তাহলে আমাদের আর যৌথ প্রযোজনার সিনেমা করা লাগবে না। সত্যি শাকিব খান একাই আমাদের ইন্ড্রাস্টি, আমাদের সেই সোনালি অতীতে ফিরিয়ে নিতে পারবে।”
একই গ্রুপের সদস্য জান্নাতুল নাইম পিয়াল লিখেছেন, “সিনেমাটির টিজার যারা দেখেছেন, প্রায় সবাই মুগ্ধ। একটা কথা মানতেই হবে, ‘দুই পৃথিবী’ বা ‘লাভ ম্যারেজে’র শাকিব খানের সাথে ‘আরও ভালোবাসবো তোমায়’ বা ‘সম্রাটে’র শাকিব খানের আকাশ পাতাল তফাৎ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে শাকিব খান নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খুবই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। বাংলা চলচ্চিত্রের পালাবদল শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরেই।”