March 7, 2026
বিনােদন ডেস্ক: হিন্দি সিনেমার অভিনেত্রী সানি লিওনি বলেছেন, তিনি সুস্থ ও নিরাপদ যৌন সম্পর্কে বিশ্বাসী। এই বিশ্বাস তার ভিতরে সবসময় ছিল বলেই তিনি কনডমসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ের বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

‘নিরাপদ যৌনতা’র ধারণাকে প্রচার করতেই ম্যানফোর্স-এর মতো কনডম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পণ্যদূত হতে রাজি সানি ২০১১ সালে। এর পর কেটে গেছে পাঁচ বছর। সানির বদৌলতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসাও এগিয়েছে তরতর করে। তবে সাবেক এই পর্নো তারকা নিজে হয়েছেন অনেক প্রশ্নের সম্মুক্ষিন।
সম্প্রতি ম্যানফোর্সেরই এক অনুষ্ঠানে সানি জানান, তিনি যে স্কুলে পড়তেন, সেখানে অষ্টম শ্রেণি থেকেই পড়ানো হত নিরাপদ যৌনতা সম্পর্কে। আর তাই নানান ধরণের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়েও এই বিষয়ে কথা বলতে সবসময়ই স্পষ্টভাষী ছিলেন তিনি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে এবিষয়ে সানি বলেন, “আমি বরাবরই এসব ব্যাপারে স্পষ্টভাষী। জড়তা আমার মাঝে নেই। অন্য অভিনেত্রীদের মতো আমি এসব করতে ভয়ও পাইনি কখনও।”
নিরাপদ যৌনতা নিয়ে স্কুল থেকে পাওয়া শিক্ষার কারণেই কৈশর থেকেই এবিষয়ে সচেতন হন সানি। ১৩-১৪ বছর বয়স থেকেই তাঁর মাথায় বসে যায়, সুরক্ষাই শারীরিক সম্পর্ককে আরওমজবুত করে। কারণ এর মাধ্যমেই অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ রোখা যায়।
সাধারণত, ভারতের প্রথমসারির তারকাদের কখনও কনডমের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় না। এ ব্যাপারে সানি বলেন, “ আসলে ব্যাপারটি যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। সবার স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা একরকম হয়না। আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি বলেই এগুলো করতে পারছি।”
ভারতের মতো রক্ষণশীল দেশে কনডমের মতো ‘স্পর্শকাতর’ পণ্যের দূতিয়ালি করতে নিজে পেছপা না হলেও, এর জন্য সানিতে বারবার বিদ্ধ হতে হয়েছে সমালোচনার তীরে। বিশেষ করে দেশটির রাজনীতিবিদেরা বরবরই বলে এসেছেন সানি ভারতের যুবসমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছেন। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা অতুল অঞ্জন কুমারের ভাষ্যে, সানি লিওনির এইসব ‘অশ্লীল’ বিজ্ঞাপনের কারণে দেশে ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে!
কিশোরী বয়স থেকেই পর্নো দুনিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়া ইন্দো-কানাডিয় এই অভিনেত্রী হিন্দি সিনেজগতের নজরে আসেন রিয়ালিটি টিভি শো ‘বিগ বস’-এর মাধ্যমে।
২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া পূজা ভাটের ‘জিসম-২’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে সানির আগমন ঘটে। পরবর্তীতে তাকে দেখা গেছে ‘জ্যাকপট’, ‘রাগনি এমএমএস-২’, ‘এক পেহেলি লীলা’, ‘ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড’-এর মতো সিনেমাগুলোয়।