May 6, 2026
ইসমাঈল হুসাইন ইমু : রাজধানীর আন্ডার ওয়ার্ল্ড আবারও সত্রিয় হয়ে উঠছে। ভারতে পলাতক ১৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী, সদ্য কারাগার থেকে বের হওয়া সন্ত্রাসী এবং কারা অšত্মরীণে আটক ভয়ঙ্কর অপরাধ জগতের সম্রাটরা নিজেদের মধ্যে বোঝাপোড়ার মাধ্যমে অনেক দিন ঝিমিয়ে থাকা এ ওয়ার্ল্ডের হাল ধরেছেন। এরাই নানা কৌশল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবরূদ কেনাবেচা, মাদক, নারী পাচার, স্বর্ণ চোরাচালন ও বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে।
একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সদ্য কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন আন্ডার ওয়ার্ল্ডের অন্যতম সম্রাট বিকাশ বিশ্বাস, কিছুদিন পর তারই সেকেন্ড ইন কমান্ড পল্লবীর জিতুসহ আরও কয়েকজন সরকারের পুরস্কার সন্ত্রাসী কারা থেকে বের হয়। বের হয়েই তারা চলে গেছে লোকচক্ষুর আড়ালে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের হন্যে হয়ে খুঁজলেও গতকাল পর্যšত্ম কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে তাদের ধরতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, পুরস্কারঘোষিত সন্ত্রাসীদের মধ্যে সুইডেন আসলাম ও আরমান এখন কারাগারে আটক আছে। এরা কারাগারে বসেই মোবাইল বা সহযোগীর মাধ্যমে অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। ৩ জায়গা থাকা পুরস্কারঘোষিত এসব সন্ত্রাসীদের মধ্যে প্রধান সমন্বয়কের কাজ করে যাচ্ছেন বিকাশ। তিনিই সকলকে পরামর্শ, নির্দেশ এবং পরিকল্পনা মাফিক অপরাধ জগত গড়ে তুলছেন। এছাড়া এলাকাভিত্তিক বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়ামের বেশ কিছু মেধাবী, সাহসী ছাত্রকেও এ জগতে ভেড়ানো হয়েছে। যেসব ছাত্রদের অতীত কর্মকান্ড আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রেকর্ড আছে। বিকাশের সমন্বয়ে গড়েতোলা অনেকদিনের ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা এ জগত যেন আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলে অপরাধীরাই মনে করছে।
অপর একটি সূত্র বলছে, সম্প্রতি কিছু ঘটনার তদšত্ম করতে গিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন যে, গোপনে অপরাধের মাত্রা বেশ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে এ সময় প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে ৫টি ছোট অস্ত্র সীমাšত্ম এলাকা পাড়ি দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। এগুলো সরাসরি আবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অতি গোপনে চলে যাচ্ছে সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে। আর কতজন ব্যবসায়ী যে কোন কারণ ছাড়া কোটি কোটি চাঁদার টাকা না গুণেছেন তার কোন হিসাব নেই। একই সময়ে অপরাধ জগতের সম্রাটরা কিছু রাজনীতিক নেতারও আশ্রয় পেয়েছেন। নেতাদের টাকা সাদা করতেও অপরাধীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এ টাকা দিয়ে তারা গোপনে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ এদেশে আনছেন, যার বেশ কিছু চালান ইতিমধ্যে ধরা পড়ছে। আর মাদক কিংবা নারী পাচারতো রয়েছেই।
২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর চারদলীয় জোট সরকার ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা তৈরি করে তাদের ধরিয়ে দিতে সাড়ে ১৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। এদের ১২ জন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আজও হদিস করতে পারেনি, যে আটজনকে তারা ধরেছিলেন তাদের মধ্যে দুজন জামিন পেয়ে উধাও। গ্রেপ্তারকৃত আটজন হলেন: খোরশেদ আলম রাসু, নাঈম আহমেদ টিটন, ফ্রিডম সোহেল, কিলার আব্বাস, লিয়াকত হোসেন, আরমান, কামাল পাশা, মশিউর রহমান কচি। এর মধ্যে লিয়াকত ও কচি অনেক আগেই জামিন পেয়ে উধাও।
এ ব্যাপারে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কামা-ার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, র্যাব সর্বদাই এসব সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী চোরাচালানি জঙ্গিসহ বিভিন্ন অপরাধীদের ধরে আসছে। আর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতে র্যাবের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অনেক সন্ত্রাসী ধরাও পড়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। পরে সে অনুযায়ী অভিযান চালানো হবে। র্যাবের গোয়েন্দা জাল রয়েছে দেশজুড়েই।