May 28, 2026
সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবেদক :
সারা দেশের আইনজীবীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা শেষে শনিবার সুপ্রিম কোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে সারাদেশের আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী বিধিবদ্ধ সংস্থাটি।
বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান পদাধিকার বলে অ্যাটর্নি জেনারেল হলেও বর্তমান কাউন্সিলের বিরোধী দল সমর্থক আইনজীবীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যেআদালত বর্জন ছাড়াও রোববার সুপ্রিম কোর্টসহ সারাদেশে কালো পতাকা মিছিলও রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সকাল থেকে মতবিনিময় সভার পর বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এসে বার কাউন্সিলের সদস্য এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন,“বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় আইনজীবীরা কাজ করে যাবে। এই কর্মসূচি পালন শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
বার কাউন্সিলের সদস্য মাহবুবউদ্দিন খোকন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিরও সম্পাদক। বিএনপির অন্যতম যুগ্মমহাসচিব খোকন সাবেক সংসদ সদস্য।
বার কাউন্সিলের সদস্য সানাউল্লাহ মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সারাদেশ থেকে আসা বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদকদের নিয়ে আমরা মতবিনিময় সভা করেছি। তাদের দাবি পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।”
সানাউল্লাহ মিয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক।
সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগের প্রতিবাদে বার কাউন্সিল এই কর্মসূচি ঘোষণার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল সোমবার সারাদেশে হরতাল ডেকেছে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এর সমালোচনা করে আসছিলেন, এর মধ্য আওয়ামী লীগ সমর্থকরাও রয়েছেন।
আইনজীবীদের আপত্তির পাশাপাশি বিএনপির বিরোধিতার মধ্যেই গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হয় সংবিধান সংশোধন বিল, যার মধ্য দিয়ে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা ফিরে পান আইনপ্রণেতারা।
বিএনপিসহ দলটির সমর্থক আইনজীবী নেতারা বলে আসছেন, এই সংশোধনের মধ্যদিয়ে বিচার বিভাগের ওপর সরকারের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা পেল।
ক্ষমতায় ফিরলে আওয়ামী লীগ আমলে আনা এই সংশোধনীগুলো বাতিলের ঘোষণাও দিয়েছে দলটি।
তবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বারবার বলে আসছেন, বিএনপি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা ‘না বুঝেই’ এই বিলের সমালোচনা করছেন।
“আমরা শুধু বাহাত্তরের অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করছি। বিচারপতিদের অভিসংশন নয়, বরং অপসারণও করবে না সংসদ। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংসদ তা অনুমোদন করবে।”