April 5, 2026
ঢাকা: ১৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ইদ্রিস অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো, ইদ্রিস মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার দুপুরে দুদক উপ-সহকারী পরিচালক সরদার মঞ্জুর আহম্মদ বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন (মামলা নং ৫০)। দুদকের মুখপাত্র ও উপ-পরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
দুদক সূত্র জানায়, ইদ্রিস মিয়া ইদ্রিস অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ উঠলে দুদক সম্পদের হিসাব জমা দিতে বলে। সম্পদ বিবরণীতে তিনি পাঁচ কোটি ৫৬ লাখ ২৬ হাজার পাঁচশ ৯৬ টাকার সম্পদের হিসার দাখিল করেন। পরে দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি ১৮ কোটি ৬১ লাখ পাঁচ হাজার নয়শ ৮ টাকার সম্পদের মালিক। মামলার বিবরণীতে ইদ্রিসের যেসব অবৈধ সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে সবের মধ্যে ইদ্রিস অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, জিহান অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড এবং জিহাদ আটো রাইস মিল নামে ব্যবসা রয়েছে।
৩০নং রশিদা বিড়ি ফ্যাক্টরিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে এক কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ঠিকাদারি ও ইটভাটার ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কোম্পানির নামে কেনা আটটি ট্রাকে তার ৩০ লাখ ৬৪ হাজার দুইশ ৫০ টাকার শেয়ার রয়েছে। রাইস মিলে বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ কোটি টাকা। এ ছাড়া ইদ্রিস মিয়ার নামে জামালপুরে তিনতলা বাড়ি, আধাপাকা টিনশেড ঘর, শেরপুরে তিনতলা বাড়ি এবং দোতলা অফিস ভবন রয়েছে।
ইদ্রিস মিয়ার গ্রামের বাড়ি শেরপুর শহরের নারায়ণপুরস্থ সদর হাসপাতাল রোডে। তিনি রাজধানীর গুলশান সার্কেল-১ এর ৮ নম্বর রোডে বাস করেন। মামলার বাদী সরদার মঞ্জুর আহম্মদ জানান, ইদ্রিসের স্ত্রী রেহানা ইদ্রিস এবং ছেলে গুলজার মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার নামে আলাদা সম্পদ রয়েছে। তাদের নামে পৃথক আয়কর নথি থাকায় ওই সময় সম্পদ খতিয়ে দেখা হয়নি। কমিশনের অনুমতি পেলে ইদ্রিসের স্ত্রী, সন্তানের নামে থাকা সম্পদও খতিয়ে দেখা হবে।