April 23, 2026
চট্টগ্রাম: এক ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম করার জের ধরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে এক বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়। বৈঠকের পর এক নোটিশে বলা হয়, ছাত্রদের দু’গ্রুপে সংঘর্ষের জের ধরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে স্নাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। নোটিশে বেলা ১২টার মধ্যে ছাত্র এবং বিকাল ৫টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ছাড়তে বলা হয়েছে। নোটিশটি ইস্যু করেন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার ড. ফারুকুজ্জামান চৌধুরী। বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আবার ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে।’
চুয়েট সূত্র জানায়, সোমবার রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক শামীম তালহা জীমকে কুপিয়ে জখম করে অপর যুগ্ম সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন গ্রুপের কয়েকজন কর্মী। গুরুতর আহত অবস্থায় জীমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শামীম তালহা জীম চুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানের অনুসারী। সে যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মেহেদী হাসান পক্ষের সমর্থক ও জীমের সহপাঠী মনিরুজ্জামান জানান, ‘রাত আটটার দিকে জীম ও আমি বঙ্গবন্ধু হলের দিকে আসার সময় হল সংলগ্ন পুকুর ঘাটের সামনে আসলে মোসলেহ উদ্দিন পক্ষের মামুন, শুভ, নিশান ও বহিরাগত সহ কয়েকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আমি দৌড়ে পালাতে সক্ষম হলেও তারা জীমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে মোসলেহ অনুসারীরা। মোসলেহ অনুসারী ও চুয়েট শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ-আল মামুন বলেন, ‘বিশ্বকাপ ও রমজান উপলক্ষে ছুটির বিষয় নিয়ে জীমের সাথে আমাদের কয়েকজনের কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি হয়। তবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাউকে আঘাত করার ঘটনা ঘটেনি।’
এদিকে, এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে মেহেদী হাসান পক্ষের অনুসারীরা অপর গ্রুপের নেতা মামুনের কক্ষ থেকে জিনিসপত্র বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাতে ডিন ও বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে এবং সকালে সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। আকস্মিক বন্ধে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা চুয়েট শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার মতো কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করে নিজেদের দায় এড়াচ্ছে। তাদের অভিযোগ, অতীতেও মারামারির ঘটনার ক্ষেত্রে প্রশাসন দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি না দিয়ে হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে দায় এড়িয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়সূত্রে জানায়, চতুর্থবর্ষের একটি বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল এবং অন্যান্য বিভাগের পরীক্ষা আগামী সপ্তাহেই শুরু হওয়ার কথা ছিল। চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী হাসানুল ফরহাদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘এটাই আমাদের শেষ পরীক্ষা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আকস্মিক বন্ধ ঘোষণা আমাদের শিক্ষা জীবনকে হুমকির দিকে ঠেলে দিয়েছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মারামারির ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর জন্য সবাইকে কেন ভোগান্তির শিকার হতে হবে এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা মিলেমিশে থাকার পরিবেশ সৃষ্টি করলে আমাদেরও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেবল স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ক্যাম্পাস স্বাভাবিক হলেই তাদের ক্লাস-পরীক্ষা পূণরায় শুরু হবে।