পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

অজগর দু’টি সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

Posted on July 11, 2014 | in সারা দেশ | by

SAMSUNG CAMERA PICTURESনওগাঁ: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আলতাদীঘি শালবন জাতীয় উদ্যানে ছেড়ে দেওয়া অজগর দু’টির ওজন বছরে প্রায় দুই গুন বেড়েছে। আগামী বছর খানেকের মধ্যেই এগুলো প্রজননক্ষম হয়ে বাচ্চাদান করতে পারে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। তবে এলাকাবাসী ও অজগর দু’টির জীবন বিপন্ন হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ক গবেষকরা। শীঘ্রই প্রাণীদু’টিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বন বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আলতাদীঘি উন্মুক্ত শালবনে অবমুক্ত করা হয় ৩৩ কেজি ওজনের একটি পুরুষ অজগর শাবক। তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ৩ বছর। একই বছরের মার্চ মাসে ওই বনে ১৮ কেজি ওজনের অজগরের একটি স্ত্রী শাবক ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন সেটির বয়স ছিল প্রায় দেড় বছর। ইতোমধ্যে প্রাণী দু’টির ওজন দ্বিগুন বেড়ে গেছে।

শালবনের মধ্যে অবস্থান করলেও নিকটবর্তী লোকালয়ে আসে না অজগর দু’টি। তাদের ওপর রাখা হয়েছে কড়া নজরদারি। বেশ কিছু দিন ধরে বড়টি শালবনের মইশুর এলাকায় ও ছোটটি দাদনপুর এলাকায় অবস্থান করছে। জানা গেছে কোন ধরনের খাবারও দিতে হয় না তাদের।

ধামইরহাট বনবিট কর্মকর্তা লক্ষন চন্দ্র ভৌমিক জানান, আলতাদীঘি শালবনের জীব বৈচিত্র পুনরুদ্ধার করতে কাজ করছে বন বিভাগ। সেই কাজের অংশ হিসেবেই রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তার মাধ্যমে অজগর দুটিকে এখানে অবমুক্ত করা হয়। এছাড়া এরই মধ্যে মেছবাঘ, গন্ধগোকুল, মনিয়া পাখি, কচ্ছপ, ত্বক্কসহ বেশ কিছু প্রাণীও ছাড়া হয়েছে। অবমুক্ত করার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে তিনটি বানর ও দুটি হনুমান। পর্যায়ক্রমে এগুলোও ছাড়া হবে বলে তিনি জানান।

অজগর দু’টির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো জানান, ধীর গতিতে চলাফেরা করে এই প্রাণীটি। বনের মধ্যে ছোট প্রাণী বা পাখি যেমন- মুরগী, ব্যাঙ, সাপ, বনবিড়াল, শেয়াল খেয়ে বেঁচে আছে অজগরদু’টি।আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই সাপগুলো প্রজননক্ষম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পর হয়তো তারা বাচ্চাও দিতে পারে।

অজগরদু’টির কারণে বনের আশে পাশের বসবাসকারী মানুষের ক্ষতি সাধন হতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বনে আগে থেকেই বিষধর সাপ রয়েছে। নতুন করে একই বনে অজগর থাকলেও ভয়ের কোন কারণ নেই। কেননা অজগর সাধারণত লোকালয়ে আসে না। আবার একবার আহার করলে ৩ থেকে ৪ মাস আর কিছু খাওয়ার দরকার হয় না। তাই এগুলো নিয়ে আতংকের কিছু নেই। আর তা ছাড়া বনে সারাক্ষণ প্রহরী রাখা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, শালবনের আশেপাশের পাড়াগুলোতে প্রায় আড়াই থেকে তিনশ’ পরিবারের বসবাস। এদের অধিকাংশই আদিবাসী সম্প্রদায়ের।বনে অজগরদু’টি অবমুক্ত করার পর থেকেই তাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। সম্প্রতি একটি ক্ষুধার্ত অজগরের শেয়াল শিকার করে আহারের দৃশ্য দেখার পর থেকে তাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

বনের পূর্ব পাশের আদিবাসী পাড়ায় বসবাসকারী নরেন উড়াও জানান, সম্প্রতি বনে হিংস্র প্রাণী ছেড়ে দেওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন হুমকির মুখে পড়েছে। রাতের আঁধারে যে কোন সময় হিংস্র প্রাণী তাদের বাড়ি ঘরে ঢুকে প্রাণহানি ঘটাতে পারে এমন আশংকা করছেন তারা। তাই দ্রুত অজগরদু’টিসহ হিংস্র প্রাণীগুলোকে বন থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তারা।

অন্যদিকে আলতাদীঘি শালবন থেকে অজগর সাপদু’টিকে দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ক গবেষক পাভেল পার্থ এই প্রতিবেদককে জানান, মাত্র ৪২.৮১ একর আয়তনের এই ছোট্ট শালবনে অজগর সাপ ছেড়ে দেওয়া বন বিভাগের উচিত হয়নি। এই বন এখন অজগরের বিচরণস্থল নয়। এমনকি এই শালবনটিতে অজগরের খাদ্যশৃংঙ্খলও নেই।

তিনি জানান, আলতাদীঘি শালবনের খাদ্যশৃংঙ্খলে বর্তমানে সর্বোচ্চস্তরের খাদক হিসেবে বাস করছে শেয়াল। একটি বনে নানান পশুপাখি তৃণলতা একটি জটিল খাদ্যশৃংঙ্খলার ভেতর দিয়ে বেঁচে থাকে। তৈরি হয় একটি বাস্তুতন্ত্র। সেই খাদ্যশৃংঙ্খলা ও বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে না জেনে হঠাৎ করে এই বনে অজগর সাপ ছেড়ে বন বিভাগ ঠিক কাজ করেনি। কারণ এটি বনের আশেপাশের আদিবাসী মুন্ডা-সাঁওতাল ও অন্যান্য বাসিন্দাদের জীবনের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি আরো জানান, একইভাবে মানুষও নিজের নিরাপত্তার জন্য অজগরদু’টিসহ ওইসব হিংস্র প্রাণীকে মেরে ফেলতে পারে। যে বনে অজগরের কোন খাবার ও বসবাস করার পরিবেশ নেই হঠাৎ সেই বনে অজগর সাপ ছাড়ার ঘটনাটি দুঃখজনক।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud