পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

পাওলির ফিটফাট শরীরের রহস্য

Posted on August 5, 2014 | in বিনোদন | by

binodon_in1_279900704

বিনোদন ডেস্ক: সুস্বাদু খাবার থেকে নিজেকে বঞ্চিত রেখে শরীরটা ফিটফাট রাখায় বিশ্বাসী নন পাওলি দাম। তবে ভোজনরসিক হলেও খাওয়ার পর ব্যায়াম করতে ভোলেন না কখনও। সুস্থ-সবল থাকতে সবসময় নিয়ম মেনে চলেন ভারতীয় এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের দৈনন্দিন রুটিন, ফিটফাট থাকার রহস্যগুলো তুলে ধরেছেন পাওলি। সেই সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো বাংলানিউজ পাঠকদের জন্য।

আপনার প্রশিক্ষণের সময়সূচী সম্পর্কে কিছু বলুন।
পাওলি দাম : খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠা আমার অভ্যাস। এরপর ব্যায়ামাগারে সময় কাটাতে ভালো লাগে। ব্যায়ামের পর সাঁতার কেটে সতেজ করে নিই নিজেকে। যত ব্যস্তময় দিনই হোক না কেন, সপ্তাহে পাঁচ-ছয়দিন দেড় ঘণ্টা শরীরচর্চাকেন্দ্রে কাটাই। শরীরকে যুতসই ও সতেজ রাখার জন্য ব্যায়াম করতে ভালোই লাগে। তাছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম আমাকে ফিট, হাসিখুশি ও মজবুত রাখতে সহায়তা করে। যারা বিপুল উৎসাহ নিয়ে শরীরচর্চা শুরুর পরও একটু ওজন কমলে মাঝপথে আলসেমি করে ছেড়ে দেন তাদেরকে সবসময় উদ্বুদ্ধ করি। কারণ এটা ঠিক নয়। আমার শরীরটা যত ফিটফাট মনে হয় তা তৈরি করতে অনেক সময় লেগেছে, পরিশ্রম করতে হয়েছে। তাই তাদের বলব এমন না করে ধৈর্য ধরে ব্যায়ামটা নিয়মিত চালু রাখতে। আমার শরীরচর্চার ধরণ ছবি অনুযায়ী ওঠানামা করে। এটা নির্ভর করে কী ধরনের ছবি হাতে নিচ্ছি। তাই আমার ব্যায়ামের নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি নেই। রোববার ছাড়া মোটামুটি রোজই সকালে ব্যায়াম করি। নাচতে ভালো লাগে আমার। এটা ব্যায়ামের ভালো মাধ্যম। তাই রোববার নিজের শোবার ঘরেই প্রিয় গানগুলো বাজিয়ে নাচতে শুরু করি। এতে ক্লান্তিও দূর হয়।

ফিট থাকতে কী কী কসরৎ করেন?
পাওলি :  সাঁতার কিংবা জুম্বা (যোগব্যায়ামের ধরণ) করার চেয়ে জিমে যেতেই ভালো লাগে আমার। ওজন নির্ভর ব্যায়াম করি, তবে বেশি ভারি কিছু হাতে নেই না। আমার পছন্দের ব্যায়াম হলো ‘টিআরএক্স সাসপেনশন’। ঝুলে ব্যায়াম করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে ডাম্বেল (ভারত্তোলনের যন্ত্র) নিয়েও ব্যায়াম করি। এ ছাড়া দু’হাত ভর করে ওঠানামা, হাতের উভয় পাশ প্রসারিত ও সংকোচনও থাকে। ক্লান্ত হবো না কিন্তু কার্যকরী হবে এমন ব্যায়াম করি। এগুলো আমাকে সবধরনের চরিত্রের সঙ্গে মানানসই করে তোলে। তবে দশ মিনিটের কার্ডিও আবশ্যকীয়। বিশেষ করে রোববার ছুটির দিনে নাচের সময়ও এটা ভুলি না। সুইস বল প্রশিক্ষণও উপভোগ করি। এটা আমার কাজের তালিকায় আনন্দ নিয়ে আসে। এ ছাড়া মুম্বাই থাকলে যোগব্যায়াম করি, এটা শরীরকে তরতাজা রাখে।

আপনার সাধারণ ডায়েট কেমন?
পাওলি : আমি ভোজনরসিক, খেতে খুব ভালো লাগে। মোটামুটি সবকিছুই খাই, কিন্তু পরিমিত। আমি বিশ্বাস করি, খাবারের জন্যই কাজ করি আমরা। তাহলে কেনো নিজেকে খাবার থেকে দূরে রাখবো! তবে ভারসাম্য বজায় রেখে সবসময় সুষম খাবার খাই। যেগুলোতে যথাযথ কার্বন, প্রোটিন, চর্বি ও পুষ্টির সংমিশ্রণ আছে। আমার সকাল শুরু হয় এক কাপ গ্রিন-টি অথবা ব্ল্যাক কফি দিয়ে। এরপর নাস্তায় কখনও ডিমের সাদা অংশ, রুটি, ফল অথবা সবজি মেশানো ডালিয়া থাকে। মাছ খেতে ভালো লাগে। তাই দুপুরে ভাত, সবজি ও অলিভ ওয়েলে ভাজা মাছ থাকে। আবার কখনও একটি রুটি দিয়ে মুরগির স্যুপ খাই। সন্ধ্যায় বাদাম চিবুই। ধোঁয়া ওঠা ভাতে বাদাম, শশা ও টমেটোর সঙ্গে মরিচ দিয়ে মিশিয়েও খাই। ইদানীং রোজ সন্ধ্যা ৭টায় নৈশভোজ সেরে ফেলি। রাতে শুধু মাছ অথবা মুরগির মাংস সবজি দিয়ে খাই। আমার মা ভালো মমোস বানাতে পারেন। তবে শীতেই মমোস বেশি খাওয়া হয়। যদি ডিনারে মমোস থাকেও তাহলে পরদিন ১০ মিনিট বেশি দৌড়াই। বুঝতেই পারছেন, কোনোদিন বেশি খেয়ে ফেললে পরদিন ব্যায়াম করে তা ঝরাতে চেষ্টা করি।

শরীরচর্চায় কখনও ফাঁকিবাজি করেন?
পাওলি :  ব্যায়ামের কথা এলে কখনও ফাঁকি দেই না। কিন্তু খাবারের বেলায় তো অবশ্যই ফাঁকি দেই! বিশেষ করে যে কোনো উৎসবে আমার ডায়েট বেখাপ্পা হয়ে যায়। আইসক্রিমের সঙ্গে চকোলেট পেস্ট্রি ও ব্রাউনি খেতে ভালো লাগে। সাধারণত পার্টিতে গেলেও ঘরে ফিরে ঠিকই খাই। এজন্য ক্যালোরিটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু আইসক্রিম খাই। তবে বিরিয়ানী আর নুডলস দেখলে লোভ সামলাতে পারি না!

আপনার কোনো ফিটনেস আইডল আছে?
পাওলি :  হ্যাঁ, জেনিফার লোপেজ। এই বয়সেও তিনি কতই না ঝলমলে। চল্লিশ পেরোলেও শরীরটাকে ঠিকই ধরে রাখতে পেরেছেন তিনি। তার শারীরিক গড়ন ও ধরে রাখার পদ্ধতি আমার ভালো লাগে। আর ভারতে আমার প্রিয় মালাইকা অরোরা খান। তার শরীরটাও অসাধারণ। মা হওয়ার পরও তিনি আকর্ষণ ধরে রেখেছেন। এমন শরীরের জন্য কোন পুরুষই না মরে যেতে চাইবেন!

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud