April 18, 2026
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আমিনুল হক ভূইয়ার অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। আজ রোববার সকাল সোয়া আটটার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে ছাত্রলীগের নেতারা হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে উল্টো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ধাক্কাধাক্কি করার অভিযোগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হওয়ার কথা ছিল। এ কারণে আজ সকাল নয়টা থেকে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ার কর্মসূচি দেন আন্দোলনরত শিক্ষকদের একাংশ। অন্যদিকে সকাল সাতটা থেকেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ব্যানারে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন সেখানে।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপাচার্য তাঁর কার্যালয়ে ঢুকতে গেলে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা তাঁকে ঢুকতে বাধা দেন। তখন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে কার্যালয়ে ঢুকতে সহায়তা করেন। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের একাংশের নেতা ও ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ শামসুল আলম বলেন, ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ড. ইয়াসমিন হকসহ কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে। ছাত্রলীগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি অঞ্জন রায়ের দাবি, ছাত্রলীগ কোনো হামলার ঘটনা ঘটায়নি। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থী ও উপাচার্যবিরোধী শিক্ষকদের পৃথক কর্মসূচি চলছে। উপাচার্য ভেতরে যেতে চাইলে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা বাধা দেন এবং ধাক্কা দিয়ে তাঁকে ফেলে দেন। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকিয়ে দেয় মাত্র। উপাচার্য আমিনুল হক ভূইয়া বলেন, ‘আজ একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য যাওয়ার পথে আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা আমাকে বাধা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আর ঘটেনি।’
কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ১২ এপ্রিল থেকে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষকদের একাংশ। আবার এই আন্দোলনকে বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরকার-সমর্থক শিক্ষকদের একটি অংশ ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্ত চিন্তার চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নেন। পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষকদের আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলন করছে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।
সিলেট প্রতিনিধি: